Wednesday, 1 April 2020

                     

সুজন ডাকুয়ার কবিতা:







                       লক-ডাউন

                   
                             (১)
আজ বসন্ত কোথায় তবে ফাগুন দিনের রঙিন স্পর্শ
লক-ডাউনের চিত্র এখন থমকে আছে ভারতবর্ষ,
জীবন সুধা নিঙড়ে পড়ে খোলা বোতল আলগা ছিপি
বদ্ধ ঘরে কাব্য লিখি, মৃত্যুদিনের পান্ডুলিপি ৷
                              (২)
তোমরা কেমন ঘরবন্দী সব আমরা তবু হাঁটছি পথে
তোমরা খাবার মজুত করো আমরা বাঁচি কোনোমতে,
বড্ড এখন সন্দেহ হয় দু'দিন পরে বাঁচবো কিনা
আজকে থেকেই উপোস শুরু ইয়ে জিন্দেগী জিন্দেগী না ৷
                              (৩)
বিশ্ব জুড়ে আকাল এখন, নতুন সকাল গুনছে প্রহর
আমার গ্রামে জীবন বাঁচুক বাঁচুক তোমার প্রাণের শহর
মানবসমাজ যতই নিকট হচ্ছে দেখো মৃত্যু খাদের
ততই আওয়াজ হয় জোরালো সাম্যবাদের সাম্যবাদের ৷

খোকন বর্মন-এর একটি কবিতা:



অনিশ্চিত মৌসুমী


লকডাউনের দিনে বড়ো বড়ো স্বপ্ন দেখতে হয় না,
বহুদিন প্রিয় ঠোঁটটির সঙ্গে সম্পর্ক নেই।
এই শীতঘুমের পরে প্রেমিকাও খোসা ছাড়তে পারে ইউক্যালিপটাসের মতো।
গিরগিটির তুলনায় মৌসুমী বায়ুকে বেশি ভয় পাই,
ভয় পাই তোমার জীবনে আসা অনিশ্চিত ফাল্গুনকে।

আমরা কি কখনো প্রেমিক হতে পারব না?
পারব না আমরা কখনো প্রেমিক হতে!


হঠাৎ করেই সম্পর্কের মাঝে কালবৈশাখী বয়ে গেলে হবে না তোমার আমার প্রেমের পহেলা বৈশাখ।
              

রিনা রানী দাস-এর একটি কবিতা:

ঘুষ


ল্যাম্প‌পো‌স্টের নিয়‌নে দুই মাতা‌লের তর্কাত‌র্কি
সাদা জামার মাতাল, অন্যজন কা‌লো পাঞ্জাবী
জামা, পাঞ্জাবী দু‌'‌টোই বিনয় কাকার খ‌ুব সখ
কখনও ম‌নের দা‌মে কো‌নো‌দিন প‌ড়েনি বেভু‌লে

‌পেনশ‌ন ফাইল জমা...জামার প‌কে‌টে বহু‌দিন
আর, ছে‌লের চাকরী...পাঞ্জাবীর হাতা‌লেই ঝু‌লে
মাতা‌লের মাতলা‌মি বে‌ড়ে গে‌ছে রা‌ষ্ট্রের মোড়‌কে
‌জামা, প‌াঞ্জাবীর খো‌পে উদাস বৃ‌দ্ধের লক্ষ্মীপু‌জো

পাঞ্জাবী চায় অগ্রীম। ব‌ন্দি ফাইল ছা‌ড়ে না জামা 
উপায় না পে‌য়ে ছোঁ‌টে প্রান্ত বেলার বৃদ্ধ না‌বিক
জামা‌কে বন্ধক রা‌খে পাঞ্জাবীর শুভ্র সাদা থা‌নে
পু‌রোটা জীবন ‌বেঁ‌চে সোনার হ‌রিণ নি‌লো কি‌নে

কা‌লো আর সাদা যো‌গে ধূসর র‌ঙের খেলা জ‌মে
‌কে এঁ‌কে‌ছে মৃত্যু ভা‌লো...দু'মাতা‌ল ক‌রে তর্কাত‌র্ক

স্বপ্ননীল রুদ্র-এর একটি কবিতা:





সিলেবাস

সিসৃক্ষু ছাত্রের মতো আমি তোমাকে মুখস্থ করি,
পাতা উল্টে উল্টে দেখি অনুচ্ছেদের কেয়ারি করা
ছোট চৌকো ফুল-ক্ষেত, সরু সবুজ লতার জরি
নাকের নথের মতো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র লাল ফুলে ভরা

অনুচ্ছেদের তলায় জমিটি বাঁকা, সবুজ ঢাল;
নিবিষ্ট কিছু পিঁপড়ে আর রঙিন পোকামাকড়
রুটমার্চ করে দূরে, শুকনো পাতার আড়ালে কাল
একলা বিকেল বেলায় চলে গেছে খুঁজে নিয়ে দোর

দ্বিধান্বিত ছাত্রের মতন মন দিই পুনঃপাঠে ;
ভাবি একই সিলেবাস থাকে যেন আগামী বছর---
মুখস্থ যাচাই করি, স্মরণযোগ্য স্মৃতিরা হাঁটে
পরীক্ষার দিকে হেঁটে যায় ফলের স্বপ্নে বিভোর

পঠিত বিষয় লিখি, না দেখে নিজেকে রাখছি টুকে
তোমার অক্ষর দিয়ে অন্ধের মতন লাঠি ঠুকে...


কবি সুজিত অধিকারী-এর একটি কবিতা:







তাহাদের চোখ


উত্তরে ক্যামেরা দক্ষিনে চোখ
ডুবে থাকি ডুয়ার্সের বনে
কষ্ট হয় সাতটা হাতি মারা গেল

দক্ষিনে পড়ে আছে তাহাদের চোখ

নীলাঞ্জনা,শুধু দক্ষিনের চোখগুলি সরিয়ে নাও

(কবির "দীর্ঘ ভাঙনের পর আমি আর নদী''কাব্যগ্রন্থ থেকে একটি কবিতা।কৃতজ্ঞতা কবি অজিত অধিকারী।)

Tuesday, 31 March 2020


কবি অমর চক্রবর্তী-এর দুটি কবিতা:





লাভ ইন দ্য টাইম অফ করোনা-০১


এই দিন ভেবেছিলাম বিশ্বকে জনাবো আমার প্রেমের কথা
নতজানু আর ওষ্ঠ্যময় প্রপোজ
হাতে সমুদ্র পাহাড় প্রেমবর্ণ রোজ-

 সেদিনই কুটিরে অন্তরীণ সীতা
উঠোনে ঘোরাফেরা করছে মারীচ
বাহিরে বেরোতে দিয়ে যাচ্ছে শিস!

ত্যাগের পোশাকেও আমি নিশ্চিত
রাবন একুশ দিন কাছে আসবেনা

ভাগ্যিস!


লাভ ইন দ্য টাইম অফ করোনা-০২


আমি তোমাকেই ভালোবাসি অনিন্দিতা
চুমু খেতে চাই প্রানভরে
তোমাকে নিয়ে যাব আর্ট গ্যালারিতে
কবিতা-উৎসবে জীবনানন্দ সভাঘরে


তুমি কি চাও?
একটা লিস্ট বানাও
মেঘ বৃষ্টি চন্দ্র-সূর্য গোলাপ মিস্টি পান
যা চাইবে অনুরাগের একশ আট পদ্ম
কিম্বা করতলে মেহেন্দির গান।


যা চাইবে তাই এনে দেবো
আদর কিন্তু আজ না-
আজ আমি ঘর থেকে বেরোবো না-তুমিও না-
সামনে করোনা

অনেকদিন ভালবাসতে হবে অগ্নি আর ঘৃতের মতো
আজ তাই মানা!





Sunday, 1 March 2020

কবি মাধবী দাস-এর একটি কবিতা:




                    ঈশ্বরের কাছে চিঠি



চল্লিশ ছুঁয়ে ‌প্রদোষ কালে 
অতর্কিতে শীতবস্ত্র ছিঁড়ে যায়
দিশাহারা শীত জাপটে ধরে 
পুরোনো বন্ধুর মতো
চোখ ভরা জল নিয়ে হেসে উঠতে দেখে
তরুণ কবি পীযূষ 
গোয়াল পাড়ার মেয়েদের 
ধুলোপড়া দিয়ে সম্মোহিত
হওয়ার কথা শোনায় ভাওয়াইয়া সুরে
আমি গরুমারায় দাঁড়িয়ে পূর্বপুরুষের মৃত্যু কাহিনীকে লিপিবদ্ধ করি।
'আমাকে বাঁচতে দাও' বলে স্লোগান তুলছে পশুরা
পোস্টারে টাঙানো আছে 
গাড়িতেই কাটাপড়া দশটি পশুর শেষ ছবি
অথচ মাথা কাটা চা গাছেরা এসব 
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হয়ে 
দুঃখে হীনতায় ভুগছে না 
ওরা জানে বারবার কাটাপড়ার পরেও 
কেমন করে লৌকিক দেহে বেঁচে উঠতে হয়।
পীযূষ 'প্রেমে ডুইব্যা মরে' গানে 
সম্মোহিত হয় না এখন 

ভুল পথে গেলে যে গুগল ম্যাপ কেমন গোলকধাঁধা 
ঈশ্বরের কাছে চিঠি লেখা 
পাগল ছাড়া এ কথা 
কেই বলতে পারে বলো?

সম্পাদকীয়: